লেখক- পল্লব কুমার মান্না

আমরা প্রায়শই মনের মধ্যে আকাঙ্ক্ষা তো রাখি, কিন্তু তার দৃঢ়তা থাকে না । আর এই কারনেই একটু একটু করে বয়স বাড়ছে, নতুন বছর আসছে পুরাতন বছর চলে যাচ্ছে, অথচ আমাদের মনের বাসনা গুলিকে দমিয়ে রাখার শিল্প বা আর্ট আমরা ভালোই রপ্ত করে ফেলেছি । ইতিমধ্যে মাথার চুলের জঙ্গলে সাদারা উঁকি মারতে শুরু করেছে। তখন, যখন আমরা মনের দরজা একটু ফাঁক করে দেখেই তখন অনেক কিছু করতে ইচ্ছা করে , সকল কাউকে দেখে কখনো কখনো স্বপ্ন জাগে; অথচ ক্ষণিকের ভিতর নিজের ব্যর্থতাকে অজুহাতের মোড়কে বেঁধে অপরের কাছে তুলে ধরতে পারলেই তখনকার মত কাজ শেষ ।

এমনটা নয় যে কেউ রাস্তা দেখিয়ে দেয় নি । দেখিয়ে দেওয়া সঠিক পথে আমরা কিছুটা চলতে শুরু করি, প্রথমে একটা দুটো বিফলতা এলেও আবার মনকে শক্ত করি, আবার চলতে থাকি, কিন্তু কেন জানিনা কিছু সময় পর নিজেকে আবার আবিষ্কার করি বিপথে নিয়মে।

 আপনারও কি একই অবস্থা ? আপনি কি এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছেন ? তাহলে চলুন নতুন করে শুরু করুন । আপনি যেখানে আছেন সেখানে থেকেই শুরু করুন । যেমন আছে তেমন ভাবেই কাজ শুরু করুন । ভবিষ্যতে অসফল হবেন এই ভয় করে বর্তমানে যে সময় আপনি নষ্ট করছেন সেই সময়টুকুর ভিতরই কি বিরাট অভাবনীয় সাফল্য লুকিয়ে রয়েছে , জানলে অবাক হবেন ।

আপনি যখনই প্রথম পদক্ষেপ ফেলবেন আপনার মন তার সমস্ত ক্ষমতাগুলিকে আপনার কাজে সহায়তা করার জন্য পাঠিয়ে দেবে। যখন আপনি কাজ শুরু করবেন তখন আপনার ভিতরে নানান অজানা শক্তি আপনাকে চারিদিক থেকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসবে। সাফল্যের পথে দৌড়ানোর জন্য আপনাকে কেবল একটি বিষয় স্মরণ রাখতে হবে যে আপনার দৌড় যেন লক্ষ্যের দিকে মুখ রেখে হয় । কেবল একটা পদক্ষেপ ফেলুন, দেখবেন সাফল্যও আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।

 এখন দেখা যাক কারা আপনাকে সফল হতে দিচ্ছে না ? কোন কোন বিষয়ের জন্য আপনি সফল হচ্ছেন না ?

  1. জীবনের শৃঙ্খলা
  2. একেবারে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য না থাকা
  3. উপার্জনের জন্য নানান দিক থেকে নানান সম্ভাবনা উঁকি মারে সেগুলিকে অবজ্ঞা করা
  4. বড় কিছু করতে গেলে সম্ভাব্য যে ক্ষতি হতে পারে তার ঝুঁকি নিতে ভয় করা
  5. নিজের ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাসের অভাব 

এই সমস্যাগুলিকে মিটিয়ে ফেলার জন্য যে গুলি করবেন –

1. প্রতিদিন কাজের রুটিন তৈরি করুন

2. রুটিন মেনে প্রতিদিন কাজ করুন

3. সুনির্দিষ্ট টার্গেট নিন এবং

4. সেই টার্গেট সময়ের মধ্যে পূরণ করুন

5. টার্গেট গুলিকে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করুন

6. নিজের সময় এবং সম্ভাব্য মানব-সম্পদকে পূর্ণ ব্যবহার করুন

7. ঝুঁকি নেওয়ার অভ্যাস গঠন করুন

8. নিজের বিশেষ এবং আনুষঙ্গিক ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রাখুন

 মনে রাখবেন এর সাথে আপনার সহায়ক হবে চারটি বিষয় —

জ্ঞান — যা আপনার আত্মশক্তি বানাবে

পজিটিভ অ্যাটিটিউড — যা ধনাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা অসম্ভবকে সম্ভব করে দেবে

অভ্যাস — যা আপনাকে বিফল হতে দেবে না

দক্ষতা -যা আপনার কাজকে নিখুঁত করবে এবং আপনাকে অনন্য তৈরি করবে

(পরের লেখার জন্য আপনার অপেক্ষা আমাদেরকে উত্সাহিত করবে — ইতি বিনীত লেখক – পল্লব কুমার মান্না )

Leave a comment