writer: Pallab Kumar Manna, Jeevan Prabaha and JPTC
বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আপনি বিশ্বব্যাপী প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ পেয়েছেন । কিন্তু ঐরূপ প্রভাব সৃষ্টি করতে হলে আপনার নিজেকে হয়ে উঠতে হবে সহস্রের মধ্যে এক। আপনার ব্যক্তিত্ব, মানসিকতা এবং উচ্চাকাঙ্খাকে তুঙ্গে নিয়ে যেতে হবে । এর জন্য সর্বপ্রথম নিজেকে অনুপ্রাণিত করতে হবে । অপরকে অনুপ্রাণিত করা অনেক সময়েই সহজ হয় কিন্তু কিভাবে করবেন নিজেকে অনুপ্রাণিত ? কঠিন হয়ে পড়ে নিজেকে অনুপ্রাণিত রাখা ।

কারণ আপনি যখন অপরকে অনুপ্রাণিত করছেন তখন তিনি আপনার কথা শুনছেন, মনে মনে উত্তেজিত হচ্ছেন এবং পথের সমস্ত বাধাকে তুচ্ছ মনে করছেন। কিন্তু যখন আপনি নিজেকে নিজে অনুপ্রাণিত করছেন তখন আপনিও অবশ্যই উত্তেজিত, কিন্তু পুণরায় যখনই পথের বাধাগুলির কথা স্মরণে আসছে তখনই মুষড়ে পড়ছেন। তাই চেষ্টা করুন এইভাবে–
(১) অন্য কোনো সৎ অনুপ্রেরণদায়ক ব্যক্তির থেকে উপদেশ গ্রহণ করুন –
সৎ ও প্রেরণাদায়ী ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে তার সামনে বসুন । মনে রাখবেন যখন তার কথাগুলি শুনবেন তখন নিজের মনে কোনো ভণিতা বা সবজান্তা ভাব রাখবেন না । নিজের জ্ঞানগুলিকে সরিয়ে রাখুন । নতুন করে কিছু শেখার জন্য তার সামনে বসবেন ।

(২) ব্যক্তিগত উন্নয়ন ও প্রেরণা মূলক পুস্তক পাঠ করুন
প্রেরণাদায়ী গুরু সর্বদা সামনে পাবেন না। তাই প্রেরণমূলক ও ব্যক্তিগত উন্নয়নের শিক্ষামূলক পুস্তক পাঠ করুন। কারণ পুস্তককে আপনার ইচ্ছামতো সময়ে পড়া যায় । আবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ বারবার পড়া যায়। ফলে পুস্তক বা পত্রিকার মাধ্যমে প্রেরণাগুলি আত্মস্থ হয়ে যায় ।
(৩) যে কাজের বিষয়ে প্রেরণা নিচ্ছেন সেই কাজে ছোট ছোট সাফল্য পাবার চেষ্টা করুন –
বর্তমানযুগ বড়ই সাফল্যমুখী এবং পুরস্কার মুখী। তাই নিজেকে অনুপ্রাণিত রাখতে গেলে পুরস্কার বা স্বীকৃতি পেতে হবে । যদি আপনার প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদী হয় তাহলে সেগুলিকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে এক একটির জন্য সময় নির্দিষ্ট করে নিজের সাথেই নিজের প্রতিযোগিতা করুন । দেখুন জিতলেন, না কি হারলেন । সহজ সহজ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রথমে নিজেকে কয়েকবার জিতিয়ে দিন, দেখবেন উৎসাহ পাবেন ।
(৪) প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করুন
আপনার নিজের বিষয়ের ওপর কোনো প্রতিযোগিতা চললে সেখানে অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করুন । এতে স্বীকৃতি পেলে সেটা আপনার পক্ষে অত্যন্ত মঙ্গলময় । এমনকি যদি বিফলও হন, তাহলেও লাভ পাবেন ।
(৫) সাফল্যকে অভ্যাস করতে হয়।
সাফল্য এমন – একটা বস্তু যে একবার সফল হয়ে গেছি বলে আর আমার কোনো চিন্তা নেই এমন ভাবনা ভাবা খুবই ভুল । সাফল্য কারো একচেটিয়া অধিকার নয় । ফলে সাফল্যকে অভ্যাস করতে হয় । একবার সফল হলে দ্বিতীয়বার সফল হওয়ার জন্য আপ্রাণ প্রচেষ্টা রাখতে হবে। নতুবা আপনি যতটাই সফল হয়েছেন, পরে ততটাই নিরুৎসাহিত হয়ে যাবেন।

(৬) অপরের মন্তব্য না শোনা –
সমাজের অধিকাংশ মানুষই সাধারণ মানুষ । তাই সাধারণ মানুষের থেকে অসাধারণ ব্যবহার আশা করা বোকামি। আপনার সাফল্য অপরের ঈর্ষার কারণ । তাই অপরের কথায় কান দেবেন না।
কারণ সেই সকল কথা নিজের প্রতি নিরুৎসাহব্যঞ্জক হতে পারে।
(৭) অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে এড়িয়ে যাবেন না
নিজের কাজের ব্যর্থতাকে অপরের ঘাড়ে চাপিয়ে বেশ সুখ অনুভব করা যায়। উৎসাহও আসে। নিজেরও আফশোষ থাকে না। এই ধরণের উৎসাহ খুবই ঋনাত্মক উৎসাহ ।
নিজের দোষ নিজের ঘাড়েই নেবেন । সেগুলি শুধরে নেওয়ার রাস্তা পেলে আপনা থেকেই উৎসাহ অনুভব করবেন।
Leave a comment